জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ অভিযানে ০১টি বিদেশি রিভলভার, ০৩ রাউন্ড গুলি, চাইনিজ কুড়াল, ইলেকট্রিক শকার মেশিন, চাপাতি, ছুরিসহ দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র এবং ২৮৫ (দুইশত পঁচাশি) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪০ (চল্লিশ) পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং নগদ টাকাসহ ০৩ (তিন) জন অস্ত্র ও মাদক কারবারি গ্রেফতার।
জেলা গোয়েন্দা শাখা বগুড়ার মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ০১/০৮/২০২৬ খ্রি. রাত ২২.৩০ ঘটিকার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, বগুড়া শহরের অদুরেই সন্ত্রাসী রবিউল ইসলাম রকি (৩৩)-এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র গড়ে উঠেছে। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া জেলাসহ আশপাশের এলাকায় মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া এবং মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এর প্রেক্ষিতে বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), বগুড়ার অফিসার ইনচার্জ জনাব মোঃ ইকবাল বাহার-এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় এসআই (নিরস্ত্র)/মোঃ আরিফুল ইসলাম, এসআই (নিরস্ত্র)/মোহাম্মদ ফজলুল হক, এসআই (নিরস্ত্র)/শামীম আহমেদ, এসআই (নিরস্ত্র)/মোঃ জাহাঙ্গীর কবির, এসআই (নিরস্ত্র)/মোঃ মোস্তাফিজ আলমসহ ডিবির একাধিক টিম পরিকল্পিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনার একপর্যায়ে বগুড়া সদর থানাধীন বাঘোপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর বাঁধ সংলগ্ন টিএমএসএস-এর মেহগনি বাগান ঘিরে ফেলা হয়। ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে আসামী ১। মোঃ রবিউল ইসলাম রকি (৩৩), পিতা-মৃত রতন তালুকদার ওরফে রাজ্জাক, সাং-মহিষবাথান তালুকদারপাড়া, ২ । মোঃ রাকিব রহমান (২৬), পিতা-মোঃ শাহীন ফকির, সাং-চাঁদমুহাহাট এবং ৩। মোঃ রাফি আহমেদ (১৯), পিতা-মোঃ আজিজুল হাকিম, সাং-ঠেঙ্গামারা দহপাড়া, সর্ব থানা-সদর, জেলা-বগুড়াদের-কে গ্রেফতার করা হয়। তবে তাদের আরও ৬/৭ জন সহযোগী অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেহ তল্লাশি এবং ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত হতে ০১টি বিদেশি রিভলভার, ০৩ রাউন্ড গুলি, ০১টি বার্মিজ টিপ চাকু, ০১টি চাইনিজ কুড়াল, ০১টি ইলেকট্রিক শকার মেশিন, ০২টি দেশীয় চাপাতি, ০২টি দেশীয় ছোরা, ০১টি স্টিলের এসএস পাইপ, ২৮৫ (দুইশত পঁচাশি) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০ (চল্লিশ) পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ২০,৩০০/- (বিশ হাজার তিনশত) টাকা, ০৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, গ্রেফতারকৃত ১নং আসামী মোঃ রবিউল ইসলাম রকি দীর্ঘদিন যাবৎ মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে হানি ট্যাপের মধ্যমে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, অবৈধ অস্ত্রের মহড়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও ত্রাসের সৃষ্টি করে আসছিল। এছাড়াও, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করতেও সে দ্বিধা করত না। ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, চিন্তাই সহ একাধিক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে। প্রকাশ থাকে যে, ০১নং আসামীর বিরুদ্ধে ০৫টি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় The Arms Act, 1878-এর ১৯(এ)/১৯(এফ) ধারাসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/২৯(ক) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।