বগুড়ায় মারপিটে জুলাই যোদ্ধা সাফি ও তার মা গুরুতর আহত থানায় এজাহার দায়ের
দৈনিক সমাজ নিউজ ডেস্ক।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুবককে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন তাঁর মায়ের ওপর প্রকাশ্যে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গভীর জখমের কারণে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
থানা ও পরিবার সূত্রে জানা যায় উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মোখলেছার (৫৮) মঙ্গলবার গাবতলী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয় গত সোমবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে হোসেনপুর স্ট্যান্ড এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে মোখলেছারের ছেলে জুলাই যোদ্ধা সাফিকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও তাঁর বাঁ পায়ের গোড়ালিতে গভীর জখম হয়। পরে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তিনটি সেলাই দিতে হয়। হামলাকারীরা তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হলেও উত্তেজনা অব্যাহত ছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রসহ দলবদ্ধভাবে সাফির বাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থান নেন। সাফিকে না পেয়ে তাঁর মা হোসনে আরা বেগম (৪০) বাড়ি থেকে বের হলে তাঁকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলায় তাঁর হাত, কোমর ও পিঠে গভীর জখম হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আহত হোসনে আরা বেগমকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলমসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে থানায় এজাহার জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যাচেষ্টা, সশস্ত্র হামলা ও গুরুতর জখমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
