ভয়ে আতংকে জর্জরিত শহিদ জিয়া মেডিকেল কলেজ বগুড়া।
নিজস্ব প্রতিবেদক ;
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য সেবার চেয়ে আতঙ্কের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালটিতে প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় দালালদের দৌরাত্ম্য এবং পদে পদে অর্থ আদায়ের হয়রানি।
অভিযোগ রয়েছে যে, হাসপাতালে প্রবেশের পর একটি হুইল চেয়ার পেতেও সর্বপ্রথম টাকা গুণতে হয় । এরপর রোগী ভর্তি করা হলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বেড। প্রথমে রোগীদের মেঝেতে থাকতে বাধ্য করা হয় এবং পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের টাকা দিলে তবেই মিলছে বেডের ব্যবস্থা । হাসপাতালের স্টাফরা ন্যূনতম সেবা দেওয়ার বদলে ‘বকশিস’ বা টাকা দাবি করেন এবং রোগীদের সাথে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও মালিকসুলভ আচরণ করেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, প্যাথলজিতে নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও দ্রুত রিপোর্ট পেতে হলে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা; অন্যথায় রিপোর্ট দিতে করা হচ্ছে চরম বিলম্ব।
হাসপাতালটিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আইসিইউ (ICU) ব্যবস্থার তীব্র সংকট রয়েছে । গত ৮ এপ্রিল আইসিইউ এবং অক্সিজেনের অভাবে মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটি বিষজাতীয় কিছু খেয়ে ফেলায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ইমার্জেন্সিতে নেওয়ার প্রয়োজন থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাকে প্যাথলজিতে ভর্তি করে রাখে এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়নি। পরবর্তীতে যখন চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে আইসিইউতে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায় । এমনকি অক্সিজেন দেওয়ার ৩-৪ মিনিট আগেই শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এতটাই অপরিষ্কার যে একজন সুস্থ মানুষ সেখানে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার উপক্রম হয়।এছাড়া সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধের সরবরাহ নেই, যার ফলে রোগীদের পরিবারকে চড়া দামে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না, হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসকদের কক্ষেও সবসময় ঔষধ কোম্পানির দালালদের ভিড় লেগে থাকে, যা স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে
এত নেতিবাচকতার মাঝেও কিছু সিনিয়র চিকিৎসক এবং জুনিয়র নার্সরা সীমিত সম্পদের মধ্যেই সাধ্যমতো উন্নত সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তবে তারাও সরকারি সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণে বিভিন্ন অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকার যদি অবিলম্বে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ করে, স্টাফদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে এবং প্রশাসনিক কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দালাল ও অনিয়ম নির্মূল করে, তবেই এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব বর্তমানে হাসপাতালটি যেন সাধারণ রোগীদের জন্য এক চরম ভোগান্তির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে


