
বগুড়ায় ‘ব্যাঙের ছাতার মতো’ সাংবাদিক! মোবাইল হাতে নিলেই সাংবাদিক?
বগুড়া শহরে সাংবাদিকতার পরিচয় নিয়ে বাড়ছে নানা প্রশ্ন!
কারও হাতে মোবাইল, কারও গলায় ক্যামেরা—ব্যস, হয়ে গেলেন সাংবাদিক! এমন প্রবণতা নিয়ে বগুড়ার সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
অভিযোগ রয়েছে, অনেকের কোনো নিয়মিত পত্রিকা বা গণমাধ্যমে কাজের পরিচয় নেই। নেই সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ কিংবা সংবাদ লেখার মৌলিক জ্ঞান। এমনকি ক্যাপশন কীভাবে লিখতে হয়, সংবাদ কীভাবে তৈরি করতে হয়—সেটিও অনেকে জানেন না। অথচ তারাই আবার নিজেদের বড় সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
একসময় কাঁধে ক্যামেরা থাকলেই মানুষ বুঝত—তিনি সাংবাদিক। এখন সেই জায়গা দখল করেছে মোবাইল ফোন। মোবাইল হাতে থাকলেই কেউ কেউ সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসে ঘোরাফেরা করছেন।
অন্যদিকে যারা দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নিয়ে সাংবাদিকতা শিখেছেন, নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই ও সংবাদ লেখার কাজ করছেন—তাদের অনেকেই থাকছেন আড়ালে।
প্রশ্ন উঠছে—সাংবাদিকতা কি এখন পেশা, নাকি কারও কারও কাছে নেশা ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার?
আরও অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সরকারি অফিসে দীর্ঘদিন অবস্থান করছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় ও পেশাগত যোগ্যতা যাচাই করা হোক।
কোন গণমাধ্যমে কে কর্মরত, তার তালিকা প্রকাশ করা হোক।
সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা হোক।
কারণ, মোবাইল হাতে নিলেই সাংবাদিক হওয়া যায় না। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা—এখানে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, নৈতিকতা, তথ্য যাচাই এবং সত্য প্রকাশের সাহস।
বগুড়ার সাংবাদিকতার মর্যাদা রক্ষায় এখনই প্রয়োজন সঠিক যাচাই-বাছাই।