
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের একটি প্রতিনিধি দল প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও অন্যান্য সাবেক সেনা সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধি দলটি বৈঠকে সাবেক ও চাকরিচ্যুত সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, চিকিৎসা ও সার্বিক সুরক্ষাসংশ্লিষ্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া উত্থাপন করে।
বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
• *ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে বাস্তবায়ন* : ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে’ অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং আগামী অর্থবছর থেকে ‘ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে’ (One Rank One Pay) কার্যকর করার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
• *চিকিৎসা সুবিধার সম্প্রসারণ* : অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের স্ত্রীদের জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (CMH) স্থায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক সদস্যদের সার্বিক চিকিৎসা সুবিধা (Treatment Facilities) বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তাঁদের অগ্রাধিকার প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
• *মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ:* অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের শেষ বিদায়ে প্রাপ্য গার্ড অফ অনার (Guard of Honour) নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের মরণোত্তর ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
• *চাকরিচ্যুতদের পুনর্বিবেচনা:* বিভিন্ন কারণে চাকরিচ্যুত সদস্যদের সেনাসদরে পাঠানো আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন বাহিনী প্রধানের মানবিক সহায়তায় ইতিবাচক নিষ্পত্তির (Disposal) কাজ চলমান রয়েছে। ১৯৫ জন এর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অন্যান্য সৈনিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
• *সুরক্ষা বোর্ড ও সেল গঠন:* অবসরপ্রাপ্তদের সামরিক ও বেসামরিক পরিমণ্ডলে বঞ্চনা থেকে রক্ষায় ‘জেলা সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড’-এর সংখ্যা ২০টি থেকে বাড়িয়ে ৩০টিতে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাবেক সদস্যদের সুরক্ষায় একটি ডেডিকেটেড সেল (Cell) গঠন করা হবে।
• *বাহিনী প্রধানদের বিতর্ক মুক্ত রাখা* : সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য ও ভাবমূর্তি বজায় রাখতে বাহিনী প্রধানদের যেকোনো ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে; কারণ বাহিনী প্রধানদের সম্মান ক্ষুণ্ন হলে পুরো সামরিক কাঠামোর ওপর তার আঘাত আসে।
সাবেক সদস্যদের জন্য একটি ‘Ex-Forces Club’ প্রতিষ্ঠা, জেলা প্রশাসকদের (DC) মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সহায়তার নির্দেশ এবং মেজর সিনহা হত্যা মামলা ও বিডিআর বিদ্রোহে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া আইন মেনে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, “আপনারা গায়ের ইউনিফর্ম হয়তো খুলে ফেলেছেন, কিন্তু মাতৃভূমির সুরক্ষায় যে পবিত্র আমানত ও রক্তশপথ আপনারা নিয়েছিলেন, তার ভার আজও এতটুকু কমেনি। এই দেশ ও জাতির হৃদয়ে আপনারা সব সময়ই একেকজন অতন্দ্র প্রহরী—আমাদের ‘রিজার্ভ ফোর্স’। সব বিভেদ আর ভিন্নতা ভুলে এক পতাকার নিচে, এক ছাতার নিচে আসুন। সুশৃঙ্খলভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলুন আমরা আবার আমাদের অভিজ্ঞতা ও ভালোবাসা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করি।